জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১০:০০ এএম
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ প্রশাসন এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত একটি ফিলিস্তিনি কমিটি তাদের বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থনে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর গাজা ম্যানেজমেন্ট’ (এনজিএসি) এই রূপরেখা সামনে এনেছে।
সংস্থাটির জেনারেল কমিশনার আলী শাথ এক বিবৃতিতে জানান, গাজাবাসীর জন্য বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় সচল করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ধ্বংসপ্রাপ্ত উপত্যকায় একটি শান্তিপূর্ণ সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পুনর্গঠন কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’।
হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, ট্রাম্প ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের ভিত্তিতে এনজিএসি গঠিত হয়েছে। সংস্থাটি মূলত গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা এবং ভবিষ্যতে একটি স্বনির্ভর শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি গাজার সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণকেও এই পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’-এ ইসরায়েলপন্থী সদস্যদের প্রভাব বেশি এবং প্রকৃত ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত সীমিত। বর্তমানে গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় এনজিএসি কতটা স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘসহ প্রচলিত আন্তর্জাতিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে গাজায় একটি নতুন শাসন মডেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে আড়াল করতে পারে।এদিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবেশ নিয়ে ইসরায়েলি কড়াকড়ি কাটেনি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৫৪৮ জনে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহে সব ধরনের বাধা দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে। এনজিএসি-র এই নতুন পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত গাজাবাসীর জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে নাকি তা কেবল একটি অর্থনৈতিক প্যাকেজ হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন