সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিন: মমতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

বাংলাদেশের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিন: মমতা

সংবাদ সম্মেলনে মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের উচিত ওপার বাংলার শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু আয়োজন থেকে শিক্ষা নেওয়া। 

গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা নিয়ে অনেকের মনেই নানা আশঙ্কা ছিল। অনেকে ধারণা করেছিলেন সেখানে ব্যাপক অশান্তি ও সহিংসতা হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি; বরং অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। 

তিনি মনে করেন, ভারত একটি বড় গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও যদি এখানে নির্বাচন পরিচালনায় কোনো দুর্বলতা থাকে, তবে তা কমিশনের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।ভারতীয় নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে আখ্যা দিয়ে মমতা অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, হুমকির রাজনীতি চালিয়ে কমিশন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। 

মমতার ভাষায়, এই ধরণের একপেশে আচরণ রাজতন্ত্রেও দেখা যায়নি, যা বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি। তিনি কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেননি।সামনে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের আরও চারটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কমিশন অপ্রয়োজনে রাজ্য সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করছে। 

এর ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যকার সাংবিধানিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ভারতের ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।