রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিতে আফগান তালেবানের জরুরি বৈঠক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ১২:২১ পিএম

পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিতে আফগান তালেবানের জরুরি বৈঠক

আফগানিস্তানে পাক হামলা

আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তান বিমান ও ড্রোন হামলা চালানোর পর পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। রোববার ভোরের এই হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। এই আকস্মিক হামলার পর আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার উচ্চপর্যায়ের এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছে। বৈঠকে পাকিস্তানের এই সামরিক তৎপরতার পাল্টা জবাব কীভাবে দেওয়া যায়, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। 

আফগান সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। কাবুলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই হামলার যথাযথ জবাব দেওয়ার অধিকার তারা রাখে। তবে সেই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা কখন এবং কীভাবে নেওয়া হবে, তা তালেবান শীর্ষ নেতৃত্বই নির্ধারণ করবেন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগান সরকার মনে করছে পাকিস্তান এই হামলার মাধ্যমে আগের করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে।

 পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আফগানিস্তান ইতিমধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্ককে বিষয়টি অবহিত করেছে। রোববারের এই হামলায় পাকিস্তানের এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান অংশ নেয় বলে জানা গেছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে এই সূক্ষ্ম হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে তাদের দেশে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা আফগান ভূমি ব্যবহার করছে।

তবে পাকিস্তানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে ডজনখানেক সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছরেও সীমান্ত কেন্দ্রিক বিরোধ নিয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।

 পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সাম্প্রতিক এই হামলা আবারও দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করা এবং তার জবাবে এই বিমান হামলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।