ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবার এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পাকিস্তানের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও সেনা ক্যাম্পে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে যে এই হামলায় পাকিস্তানের ফৈজাবাদ, নওশেরা, জামরুদ ও অ্যাবোটাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে নিশানা করা হয়েছে।
আফগান কর্মকর্তাদের দাবি এই অভিযানটি অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে তারা সঠিকভাবেই আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছেন।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে যে নওশেরার একটি সামরিক সদর দপ্তর এবং ইসলামাবাদের অদূরে ফৈজাবাদের একটি সামরিক শিবিরে সুনির্দিষ্ট ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই প্রথম আফগান বাহিনীর পক্ষ থেকে পাকিস্তানের এত গভীরে গিয়ে সরাসরি হামলার দাবি করা হলো।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে এখন চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক মোড় হিসেবে দেখছেন।আফগানিস্তানের সেনাপ্রধান ফাসিহউদ্দিন ফিতরত এই হামলার পর এক কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন যে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা যেকোনো আগ্রাসনের অত্যন্ত শক্তিশালী ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার বাহিনী যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফিতরত আরও সতর্ক করে বলেন যে যদি পাকিস্তান পুনরায় আফগান ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলা চালায় তবে এর প্রতিক্রিয়া কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলো সরাসরি তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
আফগান সেনাপ্রধান দেশের সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে তারা সব সময় যেকোনো বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলায় সজাগ রয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক ট্যাংক এবং হালকা ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে। যেকোনো সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য আফগান সেনারা এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এই নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে যা বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন