রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাকিস্তানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাল আফগানিস্তান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১০:৫১ এএম

পাকিস্তানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাল আফগানিস্তান

আলোচনার প্রস্তাব তালেবানের

সীমান্তে চলমান চরম উত্তেজনা এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা যুদ্ধ ঘোষণার পর কাবুলের পক্ষ থেকে এই শান্তির প্রস্তাব দেওয়া হলো। 

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে আফগানিস্তান সবসময় আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা সমাধানের নীতিতে বিশ্বাসী এবং বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে তারা এখনো শান্তিপূর্ণ আলোচনার পথ খোলা রাখতে চান। 

তিনি মনে করেন যুদ্ধের চেয়ে কূটনৈতিক সমঝোতাই দীর্ঘস্থায়ী সমাধান আনতে পারে।গত অক্টোবর মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও গত কয়েক মাস ধরে সীমান্তে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছিল। 

এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হয়। পাকিস্তান দাবি করেছে যে আফগান বাহিনীর পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় উসকানিমূলকভাবে আগে গুলি চালানো হয়েছিল যার পাল্টা জবাব দিচ্ছে তাদের সশস্ত্র বাহিনী। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন যে তাদের অভিযানে ইতোমধ্যে আফগান বাহিনীর ২৯৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৪৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া আফগানিস্তানের ৮৯টি সেনা চৌকি এবং ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসলামাবাদ।অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে। 

তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে আফগান বাহিনীর তীব্র আক্রমণে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকিস্তানের ১৯টি সেনা চৌকি। এই ভয়াবহ সংঘাতের ফলে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি আনা সম্ভব নয় বরং দুই দেশের জনগণের স্বার্থে আলোচনা ও সমঝোতাই একমাত্র পথ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা/রয়টার্স