বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সাইবার হামলা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

ইরানের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সাইবার হামলা

ইরানে সাইবার হামলা

ধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের দুই বৈরী রাষ্ট্র ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে শক্তিশালী সামরিক অভিযান চালিয়েছে। আকাশপথের এই প্রলয়ংকরী হামলার সমান্তরালে দেশটিতে চালানো হচ্ছে ব্যাপক সাইবার হামলা। এর ফলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার। 

সাইবার আক্রমণের কারণে অনেক জায়গাতেই তথ্য সরবরাহ এবং প্রশাসনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।ভয়াবহ এই হামলার মুখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়িকে দ্রুত একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে। 

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে হামলার সময় খামেনেয়ি তেহরানে ছিলেন না। তিনি সেই মুহূর্তে ঠিক কোন শহরে অবস্থান করছিলেন তা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা না হলেও তাকে বর্তমানে একটি গোপন ও সুরক্ষিত স্থানে রাখা হয়েছে। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে এই লুকোচুরি এবং তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে হামলার তীব্রতা এবং কৌশলগত গভীরতা ছিল অনেক বেশি।আল জাজিরার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পারচিন মিলিটারি কমপ্লেক্স এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল পরমাণু শক্তি সংস্থাকে লক্ষ্য করে নিখুঁত আঘাত হেনেছে। 

কেবল রাজধানী তেহরানই নয় বরং কেরমানশাহ, লোরেস্তান, তাবরিজ, ইসফাহান ও কারাজেও প্রলয়ংকরী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে যা ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মূলত পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের আলোচনা কোনো ইতিবাচক ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর থেকেই এই ধরনের সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

এর আগে গত শুক্রবার ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত সেই দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই নির্দেশনার পরপরই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা নিশ্চিত হন যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। 

সামরিক শক্তির পাশাপাশি ডিজিটাল যুদ্ধক্ষেত্রেও ইরান কতটুকু মোকাবিলা করতে পারবে তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা চলছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক অনিশ্চিত এবং ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে যা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।