বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

দোহায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করল কাতার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৫, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

দোহায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করল কাতার

দোহায় বিস্ফোরণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে এবার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কাতারের রাজধানী দোহা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইরানের পাল্টা হামলার প্রতিক্রিয়ায় দোহায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দোহায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদক জানিয়েছেন যে শহরের আকাশে দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটছে। 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাতারের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং তারা আকাশসীমার প্রবেশকারী শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলিকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল কাতার সরকার।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দোহাকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করছে। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বর্ণনা অনুযায়ী প্রথমে চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং পরবর্তীতে আরও ছয়টি ও সবশেষে অন্তত ২০টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দে দোহা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। 

রাতের আকাশে ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক মিসাইলগুলো যখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনকে আঘাত করছে তখন আকাশে প্রচুর ধোঁয়া ও আগুনের আভা দেখা যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার নামে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আক্রমণ চালাচ্ছে। 

চলতি সপ্তাহেই সৌদি আরব কুয়েত এবং দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ও দূতাবাসগুলোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। কাতারের দোহায় আজকের এই হামলাটি সেই ধারাবাহিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থারই অংশ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তাদের আকাশসীমায় যুদ্ধের এই সরাসরি প্রভাব দেশটির জন্য বড় ধরণের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে জনবহুল এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে গোয়েন্দা তথ্যে আগেই এই হামলার আশঙ্কা করা হয়েছিল। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যে অত্যন্ত নাজুক এবং যেকোনো সময় বড় ধরণের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে আজকের এই দোহা হামলা তারই এক চরম সতর্কবার্তা।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, এএফপি, আলজাজিরা।