বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,
আলু চাষে সাশ্রয়

মুন্সীগঞ্জে আলু চাষে সার সাশ্রয় ও সুষম ব্যবহারে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

মুন্সীগঞ্জে আলু চাষে সার সাশ্রয় ও সুষম ব্যবহারে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জ একসময় আলু উৎপাদনে শীর্ষে থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো এগিয়ে রয়েছে। তবে দেশের আলুর প্রধান জোগানদাতা এবং বিশেষ জাতের আলুর জন্য বিখ্যাত এখনো মুন্সীগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রান্তিক কৃষকের প্রধান অর্থকরী ফসল আলু এবং প্রতি বছর এখানে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়।

আলু চাষে জমির ধরণ, মাটির পুষ্টিমান, আলুর জাত ও কাঙ্ক্ষিত ফলন অনুযায়ী রাসায়নিক সারের মাত্রা নির্ধারণ করে সার ব্যবহার করলে এ মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন সার সাশ্রয় হবে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩১২ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে সারের ব্যবহার কমাতে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক এবং প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারে কৃষকের দক্ষতা বাড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

আলু চাষে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে উৎপাদন খরচ হ্রাস ও মাটির উর্বরতা রক্ষায় মাটি পরীক্ষা, কৃষক প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে চাষিদের সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়াও মাঠপর্যায়ে সুষম সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট মুন্সীগঞ্জে মাটির পুষ্টিমান অনুযায়ী আলু আবাদে সারের মাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতি হেক্টরে শূন্য দশমিক ৯৭ মেট্রিক টন। সদর উপজেলার আধারা গ্রামের আজমির হোসেন জানান যে আলু চাষে এক গন্ডা জমিতে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার মিশিয়ে ৬০ কেজি সার ব্যবহার করতে হয়। আলু বীজ এবং আইল ঘন ঘন থাকায় বেশি সার ব্যবহার করতে হয় এবং এই জেলার কৃষকরা বেশি ফলনের আশায় প্রতি হেক্টরে প্রায় দুই দশমিক ১১ মেট্রিক টন সার ব্যবহার করে থাকেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রতি বছর প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয় এবং এখানকার কৃষকরা আলু আবাদে মৌসুমে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪ মেট্রিক টন সার ব্যবহার করে থাকেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট জমির ধরণ, মাটির পুষ্টিমান, আলুর জাত ও কাঙ্ক্ষিত ফলন অনুযায়ী সারের মাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩২ হাজার ৯৮০ মেট্রিক টন। ইনস্টিটিউটের পরামর্শ মোতাবেক সার ব্যবহার করলে মুন্সীগঞ্জে মৌসুমে প্রায় ৩৯ হাজার ৫৪ মেট্রিক টন সার সাশ্রয় হবে যার বাজারমূল্য প্রায় ৩১২ কোটি টাকা। গবেষণা ইনস্টিটিউটের নির্দেশনা অনুযায়ী জমি প্রস্তুতের সময় এবং পরবর্তী পরিচর্যার সময় প্রতি হেক্টরে ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ইউরিয়া, ১৫০ থেকে ২০০ কেজি টিএসপি, ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি এমওপি, ১০০ থেকে ১৫০ কেজি জিপসাম এবং ১০ টন কম্পোস্ট সার ব্যবহার করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান জানান যে মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা অধিক ফলনের আশায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন, যার ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি মাটির পুষ্টির ভারসাম্য ও দীর্ঘমেয়াদি উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জমির পুষ্টি উপাদান বিবেচনায় পরিমিত সার ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ভালো ফলন ধরে রাখা যায়। মুন্সীগঞ্জের আলু চাষকে লাভজনক ও টেকসই করতে সুষম সার ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষকের জমির মাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খামারি অ্যাপস ব্যবহার করে জেলার ২০৬টি ব্লকে আলু আবাদে সুষম সার ব্যবহার করে ব্লকভিত্তিক প্রদর্শনী স্থাপন করা হচ্ছে। জেলার প্রতিটি ব্লক থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে মোট ৮৪৭টি মাটির নমুনা পরীক্ষার জন্য মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

শুধু বেশি সার প্রয়োগ করলেই ফলন বাড়বে এই ধারণা থেকে কৃষকদের বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি জৈব সার প্রয়োগেও উদ্যোগী করা হচ্ছে। সারের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন খরচ কমবে, মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনের স্থায়িত্ব বাড়ার পাশাপাশি ফলনও ভালো হবে বলে জানান ড. মো. হাবিবুর রহমান।