সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনে তেল পাঠিয়েছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

যুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনে তেল পাঠিয়েছে ইরান

ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে চীনে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তেহরান অন্তত ১ কোটি ১৭ লাখ ব্যারেল তেল বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্যাংকার ট্র্যাকারসের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় চীন তাদের কৌশলী মজুত বা স্টক পাইলিংয়ের অংশ হিসেবে ইরান থেকে এই বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে।ট্যাংকার ট্র্যাকারসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সমীর মাদানি জানিয়েছেন যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অনেক জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দিলেও স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে সেগুলোর গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। 

ইরানের পতাকা সম্বলিত অন্তত তিনটি বিশাল ট্যাংকার এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণটি প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি হতে পারে। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জাহাজগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য নিশ্চিত করা কঠিন হলেও বিশ্লেষকরা নিশ্চিত যে এর সিংহভাগই শেষ পর্যন্ত চীনের বন্দরেই খালাস করা হবে।হরমুজ প্রণালী বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশের যোগান দেয়। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটটি কার্যত অবরুদ্ধ এবং বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে প্রণালী ও এর আশেপাশের এলাকায় অন্তত ১০টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে সাতজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ম্যারিটাইম অর্গানাইজেশন। 

তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, তাদের জলসীমায় সন্দেহভাজন যেকোনো জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানি জাহাজগুলো অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তেলবাহী জাহাজগুলোকে যাতায়াতের সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রভাবে প্রধান রুটটি অনিরাপদ হয়ে পড়ায় তেহরান এখন বিকল্প পথের সন্ধান করছে। জাস্ক বন্দরে নতুন করে তেল লোডিংয়ের তৎপরতা শুরু হওয়া তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন কেপলারের ক্রুড বিশ্লেষক নিহয়ে খিন সোয়ে। তবে এই বিকল্প পথটি বাস্তব ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর এবং নিরাপদ হবে তা নিয়ে সমর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

সব মিলিয়ে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হলেও ইরান ও চীনের মধ্যকার এই নিভৃত বাণিজ্য ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। একদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং অন্যদিকে যুদ্ধের ঝুঁকি সত্ত্বেও তেহরান তাদের প্রধান ক্রেতা চীনের চাহিদা মেটাতে মরিয়া। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও এই সরবরাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তেল সরবরাহ কতদিন স্বাভাবিক থাকে সেটাই এখন দেখার বিষয়।