মার্চ ২৪, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে তার নির্ধারিত সামরিক অভিযান সম্পন্ন করে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের একটি নৌঘাঁটিতে ফিরে গেছে। গত কয়েক মাস ধরে এই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন নৌবাহিনীর এই শক্তিশালী জাহাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সম্প্রতি রণতরিটি গ্রিসের সৌদা বে থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করেছিল। তবে প্রত্যাবর্তনের ঠিক আগে ১২ মার্চ জাহাজটির ভেতরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, রণতরিটির একটি লন্ড্রি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় যার ফলে দুজন ক্রু সদস্য আহত হন এবং অন্তত ১০০টি শয্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে একটি বড় ধরনের বিমান অভিযান শুরু করেছিল।
এই অভিযানে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের পাশাপাশি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক রণতরি ও কয়েক ডজন আধুনিক যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য রক্ষায় এই রণতরিগুলোর অবস্থান ছিল অত্যন্ত কৌশলী। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড তার শক্তিশালী এয়ার উইং এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পুরো অভিযানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। রণতরিটির এই অঞ্চলে উপস্থিতি ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে এক ধরনের সরাসরি সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বজায় রেখেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে ওই অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে একটি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। যদিও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ এখনও এলাকায় মোতায়েন রয়েছে, তবুও বিশ্বের বৃহত্তম এই রণতরিটির বিদায় সামরিক শক্তির ভারসাম্যে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, রণতরিটির বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ মোতায়েন পরিকল্পনার বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। মূলত দীর্ঘদিনের অভিযান শেষে জাহাজটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ক্রুদের বিশ্রামের জন্যই এই ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন