মার্চ ২৬, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের আবহ নিয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান জানিয়েছেন, এই সংঘাত দ্রুত নিরসন না হলে বিশ্ব অর্থনীতি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ধরনের বিঘ্ন দেখা গেছে, তা করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ের চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন সৌদি অর্থমন্ত্রী। বিশেষ করে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকির ফলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের জন্য একটি স্বস্তির খবর দিয়েছে ইরান। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেবে না তেহরান।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা পুরো প্রণালি বন্ধ না করে কেবল তাদের প্রতিপক্ষ ও শত্রুপক্ষীয় দেশগুলোর জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, পশ্চিমা গণমাধ্যম প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার যে দাবি করছে তা সঠিক নয়। চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও ইরাকের পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সমন্বয় থাকায় এসব দেশের জাহাজগুলো সশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তায় নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে অঞ্চলটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হলেও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু দেশকে তারা এই সুবিধা দিচ্ছে। তবে যেসব দেশকে ইরান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে বা যারা এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত, তাদের জাহাজ কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না। জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে ইরানের এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বিশেষ করে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক এই সংকটময় মুহূর্তে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি স্থিতিশীল রাখতে সংঘাতের দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে সৌদি আরবসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন