সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান যুদ্ধে এবার আত্মঘাতী ড্রোন বোট নামাল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ২৭, ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

ইরান যুদ্ধে এবার আত্মঘাতী ড্রোন বোট নামাল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন ড্রোন বোট

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবারের মতো চালকবিহীন ড্রোন স্পিডবোট মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এই নৌযানগুলো মূলত গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজনে আত্মঘাতী হামলার কাজেও ব্যবহার করা যাবে। 

ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের উন্নত প্রযুক্তির নৌযান ব্যবহারের কথা এর আগে কখনো স্বীকার করেনি।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরি নামক অভিযানের সমর্থনে এই বিশেষ ড্রোন বোটগুলো টহল দিচ্ছে। 

মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাক-সির তৈরি এই নৌযানগুলো গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনেসান্স ক্রাফট বা জিএআরসি নামে পরিচিত। এই প্ল্যাটফর্মটি ইতিমধ্যে সাগরে প্রায় ৪৫০ ঘণ্টার বেশি সময় ভেসে থেকে ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিয়ে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। 

পেন্টাগন এই ড্রোন বোটগুলোর মাধ্যমে পারস্য উপসাগর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইরানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বলয় তৈরি করতে চাইছে।প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে বিস্ফোরকবাহী স্পিডবোটের মাধ্যমে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর থেকে চালকবিহীন নৌযানের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানও পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার জন্য সি ড্রোন বা সমুদ্র ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এই নতুন প্রযুক্তির ড্রোন দিয়ে কোনো আক্রমণাত্মক হামলা চালিয়েছে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী এই ধরনের ড্রোন নৌযানের ব্যবহার অব্যাহত রাখবে।

মার্কিন নৌবাহিনী চালকবিহীন নৌবহর তৈরির ক্ষেত্রে শুরুতে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হলেও বর্তমানে সেই প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তবে বর্তমানে জিএআরসি ছাড়া অন্য কোনো ড্রোন ব্যবস্থা সেখানে মোতায়েন আছে কি না তা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এই প্রযুক্তির ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্যের নৌ-যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স