সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নেপালে শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৯:১৯ এএম

নেপালে শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার কেপি শর্মা ওলি

নেপালের রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার মাত্র এক দিনের মাথায় গ্রেপ্তার হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। শনিবার সকালে কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয় যে গত বছরের প্রাণঘাতী জেনজি বিক্ষোভে সরাসরি জড়িত থাকা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে তাকে আটক করেছে নেপাল পুলিশ। 

ওলির পাশাপাশি দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানিয়েছেন যে ওলি ও লেখককে ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান যে এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয় বরং গত বছরের হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের শুরু মাত্র। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দেশের আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং বর্তমান সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি তার এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।উল্লেখ্য যে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে দুর্নীতিবিরোধী এক বিশাল যুব আন্দোলন শুরু হয় যা পরবর্তীতে জেনজি বিক্ষোভ হিসেবে পরিচিতি পায়। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান যার মধ্যে অন্তত ১৯ জনই ছিলেন অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ। বিক্ষোভের তীব্রতায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে গঠিত এক তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে বিক্ষোভ চলাকালীন উচ্চপদে থাকা কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন এবং প্রাণহানি রোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

তদন্ত কমিশনের এই সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের প্রতিবেদনে ওলি ও রমেশ লেখকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে। ওলির পতনের পর নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি স্বল্প সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেন। 

পরবর্তীতে র‍্যাপার থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বালেন্দ্র শাহ বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তার সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরদিনই এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের গ্রেপ্তারের ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।