মার্চ ২৮, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পেট্রোল রপ্তানি বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে দেশটির সরকারি পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির মন্ত্রিসভাকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দার নোভাক গত শুক্রবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে এই নির্দেশ প্রদান করেন। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।
আলেক্সান্দার নোভাক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে এক ধরনের বড় অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তেলের বাজারদর ক্রমাগত ওঠানামা করছে যা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার জ্বালানির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অভ্যন্তরীণ মূল্য নিয়ন্ত্রণ করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে গত বছর পেট্রোল সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এর আগে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে সাময়িকভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার আগেভাগেই রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে ক্রেমলিন।
এর আগেও রাশিয়া বেশ কয়েকবার পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে দায়ী করছেন। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা বাড়ায় তেল পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
গত এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে যা আমদানিকারক দেশগুলোকে নতুন সংকটের মুখে ফেলবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো যারা রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল তারা তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় রয়েছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন