এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঐতিহাসিক সরাসরি বৈঠক শেষে এবার পাকিস্তান ছেড়েছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। মেহের নিউজের বরাতে আলজাজিরা রবিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘ আলোচনা শেষে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচি।
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছাতে পেরেই ইসলামাবাদ ত্যাগ করে ওয়াশিংটনের পথে রওনা হন।
প্রায় ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ছাড়ার সময় সরাসরি ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছিল তাতে ইরান রাজি না হওয়ায় কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি।
তবে তেহরান এই বৈঠককে ব্যর্থ বলতে নারাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরান জানিয়েছে, বড় ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা শেষ হলেও কারিগরি কমিটির মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের পর্যালোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।বর্তমানে দুই দেশের কারিগরি কমিটিগুলো একে অপরের দেওয়া লিখিত প্রস্তাব ও খসড়া নথিগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে, যার সমাধান এক বৈঠকে সম্ভব ছিল না।
তবে কূটনৈতিক আলোচনার দরজা এখনো খোলা রয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং তাদের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে কারিগরি, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার টেবিলে আসাই একটি বড় সাফল্য। যদিও মার্কিন পক্ষ কিছুটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তবে ইরান বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের খসড়া নিয়ে আরও গভীর বিশ্লেষণের সুযোগ চাইছে।
মূলত ৪৭ বছর পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন সরাসরি সংলাপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে কারিগরি পর্যায়ের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে এই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ। তেহরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ছাড়ার সময় ইসলামাবাদের আতিথেয়তার প্রশংসা করলেও মূল দাবিগুলো থেকে সরে না আসার অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে যে খসড়া বিনিময় হচ্ছে, সেটিই আগামী দিনের কূটনীতির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন