এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ও সামরিক পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও নতুন করে আলোচনায় বসতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই সপ্তাহের শেষ দিকেই উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খবরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক ধরনের স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকটি আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
যদিও এখনো বৈঠকের চূড়ান্ত তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করা হয়নি, তবে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরতে সম্মত হয়েছেন। এর আগে গত শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
সেই বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে, যা পরিস্থিতিকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় কমে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পরাশক্তির মধ্যে আলোচনার এই উদ্যোগ জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
তবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরান কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে রেখেছে, আর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের বন্দরগামী জাহাজ চলাচলে কঠোর বাধা দিচ্ছে।মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যই এই বিরোধের প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। ওয়াশিংটন চাইছে তেহরান তাদের সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান পুরোপুরি অপসারণ করুক এবং আন্তর্জাতিক নজরদারি ব্যবস্থার অধীনে আসুক।
অন্যদিকে, ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব ও হরমুজ প্রণালির অধিকারের প্রশ্নে অনড় অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন যে, যদি এই আলোচনা আবারও ব্যর্থ হয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন