রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অত্যন্ত দামি ও সেরা গোয়েন্দা ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

অত্যন্ত দামি ও সেরা গোয়েন্দা ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র

বিধ্বস্ত মার্কিন ড্রোন

পারস্য উপসাগরে নিজেদের অন্যতম আধুনিক ও বহুমূল্য ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ মডেলের একটি গোয়েন্দা ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত মঙ্গলবার নৌবাহিনীর সেফটি কমান্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৯ এপ্রিল। কৌশলগত ও অভিযানের নিরাপত্তার খাতিরে ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ না করলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইট রাডার ২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার দিন ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটি থেকে ওড়ার পর পারস্য উপসাগরের ওপর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। 

ড্রোনটি যখন হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ছিল, ঠিক সেই সময় হঠাৎ রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে অস্বাভাবিক দ্রুততায় ৯ হাজার ফুটে নেমে আসে এবং একপর্যায়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই পতনটি এতটাই দ্রুত ছিল যে এটি যান্ত্রিক ত্রুটি না কি অন্য কোনো হস্তক্ষেপের কারণে হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফ্লাইট ডাটায় আরও দেখা গেছে যে, ওড়ার সময় ড্রোনটি ‘৭৪০০’ সংকেত পাঠাচ্ছিল, যার অর্থ এর সঙ্গে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল বা চালকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এর প্রায় ৭০ মিনিট পর এটি ‘৭৭০০’ সংকেত পাঠায়, যা মূলত একটি জরুরি অবস্থার সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। সবশেষে ৯ হাজার ২৫০ ফুট উচ্চতায় থাকাকালীন এটি চিরতরে রাডার থেকে হারিয়ে যায়। প্রতিটি ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ ড্রোনের বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।এই ড্রোনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নরথ্রপ গ্রামান একে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোয়েন্দা ও নজরদারি বিমান হিসেবে দাবি করে। 

এটি একটি জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোন যা টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি আকাশে উড়তে পারে এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নজরদারি চালাতে সক্ষম। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে এই মডেলের মাত্র ২০টি ড্রোন রয়েছে, যার একেকটির দাম একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫সি স্টিলথ যুদ্ধবিমানের চেয়েও দ্বিগুণ। তবে ড্রোনটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে না কি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কোনো বহিঃশক্তির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেনি। ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।