মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসরায়েল নয়, ইরানকে ‍‍`প্রধান শত্রু‍‍` বলছে আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১০:০২ এএম

ইসরায়েল নয়, ইরানকে ‍‍`প্রধান শত্রু‍‍` বলছে আমিরাত

পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক ভাবনায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের জন্য ইসরায়েল নয়, বরং ইরানই এখন সবচেয়ে বড় এবং প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আরব বিশ্বের একটি বড় অংশে ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হলেও, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর বর্তমান অবস্থান যে সম্পূর্ণ ভিন্ন তা তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার দুবাই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক বিশেষ মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন যে, আরব সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও ইসরায়েলকে তাদের মূল শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে, তবে তারা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। 

গারগাশের মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকির মানদণ্ডে এই অঞ্চলের দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এখন পরিবর্তিত হয়েছে এবং তারা সরাসরি তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ দেশগুলোকেই প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করছে।

কেন ইরানকে প্রধান শত্রু হিসেবে দেখা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যায় আনোয়ার গারগাশ অত্যন্ত সরাসরি অবস্থান নেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ইরানই সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর ওপর হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই নিরবচ্ছিন্ন হামলার কারণে ইরানের প্রতি তাদের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। গারগাশ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, যারা সরাসরি আক্রমণ পরিচালনা করছে, তাদেরকেই তারা প্রধান শত্রু বলে মনে করেন।

নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আমিরাতের গভীর উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং উচ্চ প্রযুক্তির ড্রোন সক্ষমতা এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে। আমিরাত চায় ভবিষ্যতে এই ধরণের হামলা আর হবে না—এমন একটি শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। গারগাশের মতে, ইরান যেমন তাদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন শর্ত বা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ চায়, ঠিক তেমনি আমিরাতও তাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমিরাতের এই প্রকাশ্য অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চিরাচরিত ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।