মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুবই কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র: ডোনাল্ড ট্রাম্প

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুবই কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র: ডোনাল্ড ট্রাম্প

সমঝোতার পথে ট্রাম্প ও ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে একটি বড় ধরণের চুক্তির পথে এগোচ্ছে দুই দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, তেহরান তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ প্রায় সব ধরণের কঠিন শর্তে সম্মতি প্রকাশ করেছে। 

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন।মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা মজুত না করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

 বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে যে খসড়া চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটির মেয়াদ ২০ বছরেরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই চুক্তির সম্ভাবনাকে অত্যন্ত উজ্জ্বল হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহান্তেই ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। 

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, এই চুক্তি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হলে তিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর করার একটি পরিকল্পনাও রাখছেন।দুই দেশের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, এই সময়সীমা পার হওয়ার আগেই একটি স্থায়ী রাজনৈতিক ও সামরিক সমাধান চলে আসবে। যদিও তিনি সতর্কবার্তাও দিয়ে রেখেছেন। 

ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে, যদি কোনো অপ্রত্যাশিত কারণে এই চুক্তি সফল না হয়, তবে পুনরায় লড়াই বা সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও এই চুক্তির একটি বড় অংশ হতে পারে।আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংকটেরও উল্লেখ করেন। 

বিশেষ করে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন। ওই দেশ দুটি ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা ইতিমধ্যে কার্যকর হতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের এমন দাবি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের মতো কঠিন শর্তে রাজি হয়ে থাকে, তবে এটি হবে বর্তমান শতাব্দীর অন্যতম বড় কূটনৈতিক বিজয়। এখন বিশ্ববাসীর নজর আগামী সপ্তাহের সেই কাঙ্ক্ষিত বৈঠকের দিকে।