শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

স্যানিটারি প্যাডে নিষেধাজ্ঞা দিলো মিয়ানমার, কারণ কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

স্যানিটারি প্যাডে নিষেধাজ্ঞা দিলো মিয়ানমার, কারণ কী

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার দেশটিতে নারীদের জরুরি মাসিক স্বাস্থ্য পণ্য স্যানিটারি প্যাডের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জান্তা সরকারের দাবি, দেশটির গণতন্ত্রকামী প্রতিরোধ যোদ্ধারা চিকিৎসায় এবং জুতার ভেতরে ঘাম শোষণে এই প্যাড ব্যবহার করছে। 

এমন অদ্ভুত অজুহাতে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে মিয়ানমারের নারী নাগরিকদের মধ্যে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মানবিক সংকট তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না এলেও এটি বিদ্রোহীদের রসদ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার জন্য তাদের আলোচিত ‘ফোর কাটস’ বা ‘চারটি আঘাত’ কৌশলের অংশ। গত বছরের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধটি মূলত বিরোধী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে বেশি কার্যকর করা হচ্ছে। 

বিশেষ করে মান্দালয় ও সাগাইংকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতু দিয়ে বর্তমানে স্যানিটারি প্যাড পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেনাসূত্রগুলোর দাবি, পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের বা পিডিএফ সদস্যরা তাদের বুটের ভেতরে সাপোর্ট হিসেবে এবং আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে রক্ত শোষণের জন্য স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করছে।তবে যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞরা সামরিক বাহিনীর এই দাবিকে অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

চিকিৎসা সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা স্কিলস ফর হিউম্যানিটির প্রতিষ্ঠাতা মেরেডিথ বান জানিয়েছেন, গুলির ক্ষত বা গভীর ক্ষতের চিকিৎসায় স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করা একেবারেই অনুপযুক্ত। এটি জীবাণুমুক্ত নয় এবং ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখতে বা প্রয়োজনীয় রক্ত শোষণ করতে পারে না। তিনি এই নিষেধাজ্ঞার জন্য জান্তা সরকারের নীতি-নির্ধারকদের অশিক্ষিত ও নারীবিদ্বেষী মনোভাবকে দায়ী করেছেন।

নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির নারীরা এখন অনিরাপদ বিকল্প যেমন ছেঁড়া কাপড়, গাছের পাতা বা সংবাদপত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে মূত্রনালীর সংক্রমণ, প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ ও মারাত্মক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছেন বাস্তুচ্যুত ও সাধারণ নারীরা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় কালোবাজারে স্যানিটারি প্যাডের দাম তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

এক প্যাকেট প্যাডের দাম ৩ হাজার কিয়াট থেকে বেড়ে ৯ হাজার কিয়াটে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দেশটির একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন দৈনিক মজুরি মাত্র ৭ হাজার ৮০০ কিয়াট। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এটি মূলত নারীদের চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করার একটি সুপরিকল্পিত সামরিক কৌশল যা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার নামান্তর। মিয়ানমারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার এই সময়ে এই সিদ্ধান্ত নারীদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।