এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:০৬ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য হামলার জবাবে এবার কঠোর এবং ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখানোর সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলও বসে নেই; তারা ইরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিবৃতিতে দেশটির অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, যেকোনো বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় পুরো দেশ এখন একতাবদ্ধ।
অভ্যন্তরীণ কোনো বিভাজন নেই উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ তাদের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি পূর্ণ সমর্থন বজায় রেখেছে। গালিবাফ কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ইরানি ভূখণ্ডে কোনো ধরনের উসকানি দেওয়া হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত শক্ত এবং অভাবনীয়।
সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ইরান অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। বাঘেই জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও যেকোনো ধরনের যুদ্ধের পরিস্থিতির জন্য তারা মানসিকভাবে এবং সামরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, তারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানার জন্য মার্কিন প্রশাসনের ‘সবুজ সংকেতের’ অপেক্ষা করছেন। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নাম রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনও ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিশাল বিমানবাহী রণতরীও রয়েছে, যা সরাসরি যুদ্ধের সময় ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ সামরিক অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা হুমকি পৃথিবীকে একটি নতুন বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এখন সবার নজর ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের কূটনৈতিক অবস্থানের দিকে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন