শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ট্রাম্পের শেয়ার করা মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতা’ বলল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

ট্রাম্পের শেয়ার করা মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতা’ বলল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতাপূর্ণ, অনুপযুক্ত এবং রুচিহীন’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের মতো একটি রাষ্ট্র সম্পর্কে এমন শব্দ চয়ন দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এই উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় মার্কিন রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। ‘দ্য স্যাভেজ নেশন’ নামক সেই অনুষ্ঠানে স্যাভেজ যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি ব্যবস্থার সমালোচনা করতে গিয়ে ভারত ও চীনকে ‘হেল হোল’ বা নরককুন্ড হিসেবে অভিহিত করেন। 

তিনি দাবি করেন, অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাগরিকত্ব পেয়ে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুগত নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে কোনো মন্তব্য না করলেও তার অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে এই বক্তব্যটি শেয়ার করেন যা দিল্লির নজরে আসে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানান, এই মন্তব্যগুলো ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না। তার মতে, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের অবদান ও দুই দেশের অংশীদারিত্ব যখন অনন্য উচ্চতায়, তখন এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাস এক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে জানিয়েছে, অতীতে ট্রাম্প ভারতকে ‘মহান দেশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে।

এদিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বিষয়টি নিয়ে ঝড় উঠেছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত অপমানজনক ও ভারতবিরোধী’ বলে অভিহিত করেছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত প্রতিটি ভারতীয়র সম্মানে আঘাত করা এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো। দলটির মতে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী এ ধরনের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫৫ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করছেন যারা সেদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাবশালী গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত। অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের এই শেয়ার করা পোস্ট প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন নির্বাচনের আগে অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের এমন কট্টর অবস্থান দিল্লির সাথে ওয়াশিংটনের কৌশলগত সমীকরণে নতুন কোনো অস্বস্তি তৈরি করবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।