রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিশ্বে খাদ্য সংকটের শঙ্কা, যুদ্ধকে দুষল জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ২, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

বিশ্বে খাদ্য সংকটের শঙ্কা, যুদ্ধকে দুষল জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা

খাদ্য সংকটের সতর্কতা

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে ফসলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গিয়ে বড় ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সারের চালান কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে কৃষিখাত অস্থির হয়ে উঠেছে। 

বিশ্লেষকদের ধারণা, সারের উচ্চমূল্য ও সংকটের কারণে ফলন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি খাদ্যপণ্যের দামের ওপর পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এফএও-র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরিও জানান, পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এশিয়ার কিছু দেশে ইতিমধ্যে বীজ বপনের মৌসুম পেরিয়ে গেছে। ফসল রোপণ ও ফসল তোলার নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে এই সরবরাহ সংকট সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সারের তীব্র সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো গম ও ভুট্টা চাষ কমিয়ে সয়াবিন চাষের দিকে ঝুঁকতে পারে। সয়াবিন জমিতে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সক্ষম হওয়ায় কৃষকরা এই বিকল্প বেছে নিতে পারেন। এ ছাড়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক খাদ্যশস্য উৎপাদনের বদলে জৈব জ্বালানি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

ম্যাক্সিমো তোরিও বলেন, গম ও সয়াবিনের দাম ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তে শুরু করেছে। বছরের দ্বিতীয় অর্ধে পরিস্থিতির আরও বড় পরিবর্তন হতে পারে এবং আগামী বছর পণ্যমূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, মানুষ যে খাবার গ্রহণ করে তা কেবল কাঁচামাল নয়, এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দামও সরাসরি জড়িত।

তোরিও আরও উল্লেখ করেন যে ঘড়ির কাঁটা যত ঘুরছে এবং দিন যত এগোচ্ছে, পরিস্থিতির তত অবনতি হচ্ছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই বৈশ্বিক সংকট আরও তীব্রতর হওয়ার বিষয়ে তিনি বারবার সতর্ক করেছেন। পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগামী বছরের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন।