মে ৪, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে ক্রেমলিন। সিএনএনের হাতে আসা একটি ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক ব্যক্তিত্বদের ওপর ধারাবাহিক গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের আশঙ্কার কারণে পুতিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঢেলে সাজানো হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মীদের বাসভবনে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করা রাঁধুনি, দেহরক্ষী ও ফটোগ্রাফারদের জন্য গণপরিবহনে ভ্রমণ করা এখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নতুন এই পদক্ষেপ অনুযায়ী পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে আসা দর্শনার্থীদের দুই স্তরের স্ক্রিনিং পার করতে হচ্ছে।
এ ছাড়া তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জন্য শুধু ইন্টারনেট সংযোগবিহীন ফোন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।ইউরোপীয় গোয়েন্দারা জানান যে গত ডিসেম্বরে একজন শীর্ষ জেনারেলের হত্যাকাণ্ডের পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে পুতিনের নিয়মিত যাতায়াতের স্থান কমিয়ে আনা হয়েছে এবং তিনি তাঁর গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপনের স্থান ভালদাইতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ২০২৫ সালে নিয়মিত সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করলেও চলতি ২০২৬ সালে তিনি এখন পর্যন্ত একটিও সামরিক সাইট পরিদর্শন করেননি। ২০২২ সালে ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর থেকে পুতিন মাঝেমধ্যেই দীর্ঘ সময় উন্নতমানের বাঙ্কারে কাটাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব রাশিয়ার প্রধান শহরগুলোতে সুস্পষ্ট হতে শুরু করেছে। শহরগুলোতে নিয়মিত মোবাইল ফোন ডেটা বিভ্রাট এখন পুতিনপন্থি অভিজাতদেরও ক্ষুব্ধ করে তুলছে। ২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকে ক্রেমলিন সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস এবং ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে সম্ভাব্য অভ্যুত্থান চেষ্টার ঝুঁকি নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সামরিক উচ্চ কমান্ডের মধ্যে প্রভাব থাকা প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুকে নিয়ে এই সন্দেহ বাড়ছে। গত ৫ মার্চ শোইগুয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুসলান সালিকভকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে দেশটির অভিজাতদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও পুতিন গত সপ্তাহেও চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে জনসমক্ষে সাক্ষাৎ করেছেন, তবে তাঁর চারপাশে তল্লাশি ও বিধিনিষেধ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে গত বছরের শেষ দিকে পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল। বৈঠকে চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) প্রধান আলেকজান্ডার বর্টনিকভের সমালোচনা করেন। এই ঘটনার পর পুতিন পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর নিজস্ব ফেডারেল প্রোটেকশন সার্ভিসের (এফএসও) পরিধি আরও সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন