মে ৫, ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে রাজ্যটিতে নিরঙ্কুশ জয়ের পথে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এক সময়ের বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে বিজেপির এই উত্থান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের এই হারের পেছনে কৌশলগত পরামর্শক সংস্থা আই-প্যাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অন্যতম কারণ। বিগত নির্বাচনগুলোতে এই সংস্থাটি দলকে সুবিধা দিলেও এবার তাদের কার্যকর দিকনির্দেশনার ঘাটতি ছিল।
রাজ্যের মুসলিম ভোটব্যাংকে ভাঙন তৃণমূলের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ঐতিহ্যগতভাবে এই ভোট তৃণমূলের পক্ষে থাকলেও এবার ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং অন্যান্য ছোট দলের উপস্থিতির কারণে তা বিভক্ত হয়ে যায়। পাশাপাশি হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। এর বিপরীতে বিজেপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি গ্রামীণ ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। এ ছাড়া বহিরাগত নেতাদের বদলে স্থানীয় কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ায় ভোটাররা বিজেপির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভুয়া ও বহিরাগত ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টিও ফলাফলে ভূমিকা রেখেছে।
নির্বাচনের এই ফলাফলের পর পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। রাজ্য বিজেপির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চূড়ান্ত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন