শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাসিনার পরামর্শে শুভেন্দুকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে: অলি আহমদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

হাসিনার পরামর্শে শুভেন্দুকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে: অলি আহমদ

অলি আহমদ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ডক্টর কর্নেল অলি আহমদ এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন যে শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। রোববার রাতে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১-দলীয় ঐক্যের এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

অলি আহমদ অভিযোগ করেন যে বাংলাদেশ থেকে দীক্ষিত হয়েই এই কাজ করা হয়েছে এবং সেখানে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তিনি সংবাদপত্রের খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে সেখানে মুসলমানদের ওপর অমানবিক জুলুমের খবর পাওয়া যাচ্ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সেমিনারে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও কর্নেল অলি আহমদ অত্যন্ত কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানালেও তাদের দল ও মিত্ররা আগে বিচার এবং নতুন সংবিধানের ওপর জোর দিয়েছিল। 

দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে বৈধতা দিলেও বিএনপি এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। এর ফলে দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। অলি আহমদ সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে নীতি ও জনসমর্থন ছাড়া কেবল ক্ষমতার জোরে টিকে থাকা সম্ভব নয় এবং দেশের অধিকাংশ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন যে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জুলাই সনদ পালনের ঘোষণা দেওয়া হলেও বিএনপি এখন নিজেদের সুবিধামতো এটি বাস্তবায়ন করতে চাইছে। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের রায় উপেক্ষা করার সমালোচনা করেন এবং তথাকথিত ডি-ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবি করেন। 

বক্তারা সবাই একমত হন যে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে সরকারকে আরও মনোযোগী হতে হবে। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই সেমিনারে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন যেখানে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার দাবিটি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়।