রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কেন হারলেন মমতা?নেপথ্যের কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ৫, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

কেন হারলেন মমতা?নেপথ্যের কারণ

মমতার পরাজয়ের কারণ

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের টানা শাসনের অবসান ঘটল।তবে এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো মেনে নেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টো নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিজেপি অন্তত ১০০টি আসন লুট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেল চারটায় কলকাতার কালীঘাটে একটি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তারা এই হারের কারণ ব্যাখ্যা করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। লাখ লাখ বৈধ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি করছে তৃণমূল। তবে বাস্তব চিত্র হলো, প্রথমবারের মতো দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি।

নির্বাচনী ফলাফল ও মাঠের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তৃণমূলের এই হারের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটব্যাংকে ফাটল অন্যতম। রাজ্যে ৫০ শতাংশের বেশি নারী ভোট বরাবরই মমতার পক্ষে ছিল। 

লক্ষ্মীর ভান্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্প জনপ্রিয়তা এনে দিলেও নারী সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তৃণমূলকে পিছিয়ে দিয়েছে। আরজিকর হাসপাতালে নারী চিকিৎসক নিহতের ঘটনা ভোটে প্রভাব ফেলেছে। পানিহাটির মতো তৃণমূলের দুর্গে ওই চিকিৎসকের মায়ের জয় তারই প্রমাণ।ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে রাজ্য থেকে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ পড়েছে। তৃণমূলের দাবি, এদের মধ্যে লাখ লাখ বৈধ ভোটার ছিলেন। অন্যদিকে বিজেপির দাবি ছিল, ভুয়া ভোটারের কারণে তৃণমূল এতকাল সুবিধা পেত। শেষ পর্যন্ত এই তালিকায় কাটছাঁটের সুফল পেয়েছে বিজেপি।

গত দেড় দশকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ ও নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থতার পর ভোটের আগে দেড় হাজার টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতিও কাজে আসেনি।রাজ্যে হিন্দু-মুসলিম ভোটের মেরুকরণও একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটের প্রায় পুরোটাই তৃণমূল পেত। এবার সেখানে হিন্দু ভোটের বড় একত্রীকরণ হয়েছে, যা মালদা বা মুর্শিদাবাদের মতো এলাকাতেও বিজেপিকে আসন পেতে সাহায্য করেছে। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের রদবদল এবং দুই লাখ ৪০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বিজেপির পক্ষে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।