মে ৯, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
বিশ্বজুড়ে নতুন করে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আলোচনার মধ্যে এই ভাইরাসটি সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শুক্রবার (৮ মে) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, একটি প্রমোদতরীতে প্রাদুর্ভাবের পর এখন পর্যন্ত ছয়জনের দেহে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর মধ্যে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এটি করোনার মতো নতুন কোনো বৈশ্বিক মহামারির শুরু নয় বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া ছয়টি কেসই মূলত ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ হিসেবে চিহ্নিত।
এই প্রাদুর্ভাব মূলত ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামক একটি জাহাজে সীমাবদ্ধ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় জাহাজের সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যারা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসছেন, তাদের উন্নত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কারকোহভ সংবাদ সম্মেলনে জানান, হান্টাভাইরাস ছড়ানোর ধরন কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো নয়। এটি সাধারণত আক্রান্তের খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি নতুন কোনো কোভিড মহামারির শুরু নয়। বর্তমান পরিস্থিতি ছয় বছর আগের পরিস্থিতির মতোও নয়, বরং এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট জাহাজের প্রাদুর্ভাব।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আক্রান্ত এক দম্পতি আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়েতে পাখি পর্যবেক্ষণ সফরে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা এমন কিছু স্থানে গিয়েছিলেন যেখানে হান্টাভাইরাস বহনকারী নির্দিষ্ট প্রজাতির ইঁদুরের উপস্থিতি ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস জানিয়েছেন, ভাইরাসটি কীভাবে ছড়িয়েছে তা নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্তের জন্য আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও এটি জনাকীর্ণ পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বড় বিপর্যয় তৈরি করবে না। বর্তমানে ডব্লিউএইচও এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ভাইরাসের বিস্তার রোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন