মে ১১, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করবে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।ইরানের পক্ষ থেকে লন্ডন ও প্যারিসকে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বৈঠকের ঘোষণা এল।
বহুজাতিক এই মিশনের প্রথম প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ৪০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভোট্রিন।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এপ্রিলে লন্ডনে দুই দিনব্যাপী সামরিক পরিকল্পনাবিদদের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে টেকসই যুদ্ধবিরতির পর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে একটি বহুজাতিক মিশনের বাস্তব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক সমঝোতাকে এখন বাস্তব সামরিক পরিকল্পনায় রূপ দেওয়া হচ্ছে।ইতিমধ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। ফ্রান্স ওই অঞ্চলে তাদের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দ্য গল’ মোতায়েন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য গত শনিবার জানিয়েছে, তারা ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ পাঠাচ্ছে। দুই দেশই দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক কোনো মিশনের মাধ্যমে জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় সহায়তার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে রোববারই ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালিতে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজ অথবা অন্য যে কোনো দেশের জাহাজ তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাবের মুখে পড়বে। ইরানের মতে, এই প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু তাদেরই।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ অবশ্য জানিয়েছেন, ফ্রান্স সরাসরি নৌবাহিনী মোতায়েনের চেয়ে এমন একটি নিরাপত্তা মিশনের পক্ষে যা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো পক্ষের অবরোধের বিরোধী অবস্থানে তিনি অনড় রয়েছেন এবং এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ধরনের টোল আদায়ও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েনের ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে যেমন আস্থা বাড়বে, তেমনি সংঘাত শেষ হলে মাইন অপসারণ কার্যক্রমেও এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে। মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের এই ভার্চুয়াল বৈঠকটি হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন