জুন ৯, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
ভারতে নবগঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। এই আন্দোলনের মূলধারা ও এর লক্ষ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনার পাশাপাশি সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবকদের এই বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সোশ্যাল মিডিয়া, মসজিদের ঘোষণা ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।এই সতর্কবার্তার পেছনে ছয় বছর আগের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) প্রতিবাদের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তৎকালীন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পরবর্তীতে তীব্র সামাজিক-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং দিল্লি ও আসামে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল, যার বড় খেসারত দিতে হয়েছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে। মুসলিম নেতাদের আশঙ্কা, সিজেপির এই বিক্ষোভে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ঘটলে তার দায়ভার আবারও তাদের ওপর চাপানো হতে পারে।
এদিকে, যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ পরবর্তী ময়লা আবর্জনার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সিজেপির নাগরিক দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, নেতিবাচক এই ভিডিওগুলো আন্দোলনের মূল দাবি থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল হতে পারে।তবে বিতর্কের মধ্যেও সিজেপির জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। ভারতজুড়ে তেলাপোকার ছবিযুক্ত মুখোশ, পতাকা ও লোগো সম্বলিত টি-শার্টের ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে। ৩০ রুপির মাস্ক ও ২৫০ রুপির টি-শার্ট বাজারে বেশ সহজলভ্য।
তবে প্রতিবাদের বার্তা বাণিজ্যিকীকরণের ফলে মূল আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে বুদ্ধিজীবী মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপি বর্তমানে ভারতের তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি কৌতূহল ও উদ্দীপনার নাম। কিন্তু আন্দোলনের সহিংসতা এড়াতে এবং মূল লক্ষ্য বজায় রাখতে সংগঠনটিকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ভারতজুড়ে এই নতুন মেরুকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন