শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালির কাছে ৩ ভারতীয় নিহত, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

হরমুজ প্রণালির কাছে ৩ ভারতীয় নিহত, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ভারতের

কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী ওমান উপসাগরে একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন বিমান বাহিনীর এক বিধ্বংসী হামলায় অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। দুই মিত্র দেশের মধ্যে এই নজিরবিহীন ও অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর পারস্য উপসাগরীয় সংবেদনশীল অঞ্চলে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজে সামরিক হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি অত্যন্ত কড়া ও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে ভারত সরকার। 

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তীব্র কূটনৈতিক প্রতিবাদের কথা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।তিনি ওয়াশিংটনের কাছে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কড়া ও জোরালো জবাবদিহিতা দাবি করেছেন।মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‍‍`এমটি সেত্তেবেলো নামক তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ মার্কিন বিমান হামলার ঘটনায় আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক মহলে আমাদের দেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালো প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছি। 

যেকোনো আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাধারণ নাবিকদের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক কল্যাণ রক্ষা করা আমাদের জাতীয় নীতির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য হামলা অবশ্যই অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।‍‍` এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল জানান যে গত বুধবার (১০ জুন) ওমান উপসাগরে ওই বিশেষ ট্যাংকারে হামলার পর আজ তিন ভারতীয় নাবিকের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তবে এই রক্তক্ষয়ী অপারেশনের পক্ষে সাফাই গেয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর দেওয়া জরুরি রেডিও নির্দেশনা বারবার অমান্য করায় তাদের একটি যুদ্ধবিমান থেকে জাহাজের মূল ইঞ্জিন রুমে নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী বোমা হামলা চালানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব অসীম মহাজন জানিয়েছেন যে আক্রান্ত ‘এমটি সেত্তেবেলো’ জাহাজে সর্বমোট ২৮ জন নাবিক কর্মরত ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৪ জনই ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। মার্কিন হামলার পর অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে ২১ জন ভারতীয় নাবিককে অলৌকিকভাবে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনজনকে বাঁচানো যায়নি।

তিনি আরও যুক্ত করেন যে একই সময়ে ওমান উপকূলের কাছে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি জলবীর’ একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত সেই জাহাজটিতে থাকা ২০ জন ভারতীয় নাবিকই সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন এবং সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মাঝে মার্কিন বাহিনীর এই আকস্মিক ও হঠকারী হামলা ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল বা নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।