জুলাই ৩১, ২০২৬, ১১:৪০ এএম
হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার পর নেপালে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশবাসীকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুনসারি ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
গত রোববার ভারতীয় সীমান্তের নিকটবর্তী সুনসারি জেলার একটি গ্রামে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একটি হিন্দু শোভাযাত্রার সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা টানানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নিলে পুলিশ উগ্র ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ব্যক্তি নিহত হন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারফিউ জারি করা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলায় বিক্ষোভ চলাকালে তৃতীয় আরেকজন মারা যান। নতুন করে যেন কোনো ধরনের সংঘাত ছড়াতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন কঠোর সতর্কাবস্থা বজায় রেখেছে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং অশান্তি দূর করতে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সকল নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, রাজনৈতিক দল এবং দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কাছে ধৈর্য ও সংযম প্রকাশের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
সংঘর্ষের এই ঘটনার একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন