আগস্ট ৮, ২০২৬, ১০:২৬ এএম
পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নতুন এই চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর কোনো ধরনের সশস্ত্র হামলা পরিচালিত হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য করা হবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মক্কায় আয়োজিত এই যৌথ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে এই চুক্তিটি নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়নি। আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আগ্রহী অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোও চাইলে পরবর্তীতে এই চুক্তিতে যুক্ত হতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যৌথ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এই চুক্তিকে তিন দেশের মধ্যকার গভীর কৌশলগত ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের বাস্তব প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই চুক্তির মাধ্যমে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও জানানো হয়েছে যে এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত করা।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিটিকে একটি শান্তির ঢাল হিসেবে বর্ণনা করে আশা প্রকাশ করেছেন যে এটি বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও দীর্ঘস্থায়ী সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এই সামরিক ও কৌশলগত মৈত্রী ভূরাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: ডন / জিও নিউজ

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন