বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ভারতে ফের আন্দোলন শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

ভারতে ফের আন্দোলন শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সরকারি স্কুলগুলোর অবকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন করে আন্দোলনে নেমেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। বর্তমান সরকারের শাসনামলে শিক্ষাক্ষেত্রের অব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে তারা সমর্থকদের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে বাধার মুখে পড়ছেন দলটির কর্মীরা, যার জেরে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে।

গত ১৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন সিজেপি সমর্থক আবদুল হাফিজ। তাঁর অভিযোগ, স্কুল পরিদর্শনের কয়েক ঘণ্টা পরই স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক কর্মী তাঁর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে এবং তাঁর বাবা মোহাম্মদ মফিককে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে দুই দিন পর তাঁর বাবা মারা যান। তবে স্থানীয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই হামলায় দলীয় সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পরও ন্যায়বিচার ও শিক্ষার মান উন্নয়নের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হাফিজ।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, রাজস্থানেও এই কর্মসূচি ব্যাপক বাধার মুখে পড়েছে। গত ১৪ আগস্ট আলওয়ার জেলায় সিজেপির একটি কর্মসূচির পর রাজস্থান সরকার নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়, স্কুলগুলোতে অনুমতি ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ এবং ছবি বা ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সিজেপি মূলত ‘ফিক্স দ্য স্কুলস’ নামের একটি কর্মসূচির আওতায় নিরাপদ পানীয় জল, ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মানসম্মত মধ্যাহ্নভোজ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

শিক্ষানীতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকট রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করে সিজেপি এই স্থানীয় সমস্যাগুলোকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে তাদের স্বেচ্ছাসেবকদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এত বাধা ও হামলার পরও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের এই সংস্কার আন্দোলন অব্যাহত রাখার বিষয়ে অনড় রয়েছে সংগঠনটি।