সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
বিশ্বজুড়ে টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ বাড়ানোর জোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সাথে শান্তি প্রক্রিয়ার সব স্তরে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ, নারী নেতৃত্বাধীন আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার, মধ্যস্থতা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত সব ধরনের সহিংসতার ঘটনায় নিরপেক্ষ জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী পর্যায়ের আন্তর্জাতিক বৈঠকে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’ ফোকাল পয়েন্টস নেটওয়ার্কের বার্ষিক এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিপাইন, ইতালি ও ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ঐতিহাসিক রেজুলেশন ১৩২৫ গ্রহণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এর সার্বিক বাস্তবায়ন ও বৈশ্বিক দায়বদ্ধতা জোরদারের বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা মতামত তুলে ধরেন। বক্তব্যের শুরুতেই শামা ওবায়েদ ২০০০ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে রেজুলেশন ১৩২৫ গ্রহণে বাংলাদেশের অগ্রণী ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি যেকোনো সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার নীতি নির্ধারণে নারীর প্রত্যক্ষ ও অর্থবহ ভূমিকা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক মানবিক কার্যক্রমের সাথে উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ডাকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার জোরালো দাবি জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো বৈষম্য ও নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম দায়িত্ব। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নের চলমান জাতীয় উদ্যোগের অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ আন্তর্জাতিক ঐক্যের ডাক দেন তিনি। নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার স্পেসে সংঘটিত ডিজিটাল হয়রানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালানো নির্যাতন প্রতিহত করতে বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন বিশেষ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘ঢাকা ডায়ালগ’ সম্পর্কে সমবেত প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়। একই সাথে এই সংকট যৌথভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে গঠিত হতে যাওয়া ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ যুক্ত হওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান শামা ওবায়েদ। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন