সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে জোরালো সাফাই দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তাঁর বক্তব্যের সময় সভাকক্ষের অধিকাংশ আসনই ছিল ফাঁকা। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে ব্যবহৃত পেজারের মতো একটি যন্ত্র নিজের হাতে তুলে ধরে প্রদর্শন করেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই সামরিক শক্তির বক্তব্য উপস্থিত কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের তীব্র ক্ষোভ ও বিদ্রুপের মুখে পড়ে। তাঁর বক্তব্য শুরুর সাথে সাথেই অধিবেশন কক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান। এ সময় কক্ষে উপস্থিত কয়েকজন প্রতিনিধি তাঁকে লক্ষ্য করে সরাসরি প্রতিবাদ জানান এবং শোরগোল শুরু করেন।
বক্তব্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, বিগত তিন বছরে ইসরায়েলকে সাতটি ভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের সামরিক কাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের কার্যকর আঘাত হেনেছে।
ভাষণে আন্তর্জাতিক বিশ্বের একাধিক নেতার কড়া সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সাথে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে তীব্র আক্রমণ করে তাঁকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে আখ্যা দেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নিউইয়র্কের স্থানীয় ইহুদি জনগোষ্ঠীর অনেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওঠা উপনিবেশবাদের অভিযোগ নিয়েও ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি। তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা দেশগুলোই ঐতিহাসিকভাবে আসল উপনিবেশবাদের সাথে যুক্ত ছিল। সাধারণ পরিষদের এই সংক্ষিপ্ত ভাষণের পরপরই দ্রুত ইসরায়েলের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন নেতানিয়াহু। এই সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো রাজনৈতিক নেতার সাথে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সূচি রাখা হয়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন