অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রক্তক্ষয়ী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটিতে অবস্থানরত ওমরাহ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে কাবা শরিফ ঘিরে প্রতিদিনের মতো হাজারও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি তাওয়াফ করছেন। সারা বছরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা ওমরাহ পালনে ইসলামের এই পুণ্যভূমিতে সমবেত হন। কিন্তু পুণ্যময় এই যাত্রার ভেতরেই এখন যুদ্ধ ও সংঘাতের গভীর উদ্বেগ যুক্ত হয়েছে।
রিয়াদের বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে চালানো ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। আক্রমণের সময় টার্মিনালে স্বাভাবিকভাবেই ওমরাহ যাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় এক ইমামসহ দুজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ২৪ জন বাংলাদেশি। আকস্মিক এই প্রাণহানিতে সৌদি আরবে থাকা সাধারণ মুসল্লিদের মানসিক স্বস্তি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সেখানে অবস্থানরত এক মুসল্লি জানান, তিনি নিজের এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মুঠোফোনে একের পর এক জরুরি সতর্কবার্তা আসছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি তাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। যেকোনো বিপদ থেকে রক্ষার জন্য তারা স্রষ্টার দরবারে প্রার্থনা করছেন।
হামলাকারী বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ইসলামের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনাকে তাদের লক্ষ্যবস্তুর বাইরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে। ফলে দুই পবিত্র শহরে সরাসরি কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে পৌঁছানোর সামগ্রিক যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
নিরাপত্তা শঙ্কার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে দেশটির আকাশপথ ও বিমান চলাচলে। ঝুঁকি এড়াতে অনেক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বেশ কিছু ফ্লাইটের সময়সূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বহু যাত্রী বিকল্প যাতায়াত পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই সুযোগে দোহা ও দুবাইগামী স্থলপথের গণপরিবহনে ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থার এই সংকটে ওমরাহ পালনকারীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সেখানে ওমরাহ পালনরত আরেক মুসল্লি জানান, ফ্লাইট বাতিলের কারণে তার পরিচিত অনেকের সফর বাতিল হয়েছে এবং বন্ধুরা নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেননি। এই সংঘাত সাধারণ যাত্রী ও ওমরাহ পালনকারীদের যাতায়াতকে চরম ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
একদিকে কৌশলগত বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে ক্রমাগত আক্রমণের হুমকি, অন্যদিকে সরকারের পাল্টা সামরিক তৎপরতা—এই দুই বাস্তবতায় সৌদি আরবে আগত বিদেশি নাগরিকদের উৎকণ্ঠা কাটছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বের একাধিক দেশ নিজ নিজ নাগরিকদের জন্য সৌদি আরব ভ্রমণে বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন