সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫, ১০:২৩ এএম
১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল হিটলারের আত্মহত্যার পর তার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির কী হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি রহস্য ছিল। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের তদন্তে অবশেষে সেই রহস্যের জট খুলেছে। জানা গেছে, হিটলারের মৃত্যুর পর তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের কোনো উত্তরাধিকারী ছিল না, বরং তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
হিটলারের মৃত্যুর পর তার ব্যক্তিগত সচিব মার্টিন বোরম্যানের প্রেস সেক্রেটারি হাইনজ লরেঞ্জের কাছ থেকে একটি উইলনামা উদ্ধার করা হয়। সেখানে হিটলার লিখেছিলেন, তার সব সম্পত্তি যেন নাৎসি পার্টির কাছে যায়। যদি দলটি না থাকে, তবে তা রাষ্ট্রের কাছে যাবে।
প্রকাশ্যে হিটলার নিজেকে একজন মিতব্যয়ী ও সাধারণ জীবনযাপনকারী হিসেবে দেখাতেন। তবে বাস্তবে তার বই 'মাইন কাম্ফ' ছিল তার আয়ের প্রধান উৎস। এই বইটি থেকে তিনি লাখ লাখ মার্ক আয় করেছিলেন। মিউনিখ আর্কাইভের নথি অনুসারে, হিটলার কেবল তার বই থেকে ১.২৩২ মিলিয়ন মার্ক অর্জন করেছিলেন। এছাড়া, তার একটি মূল্যবান চিত্রকর্মের সংগ্রহ ছিল এবং মার্কিন গোয়েন্দারা তার গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিশাল অঙ্কের অর্থের সন্ধান পেয়েছিলেন।
হিটলারের উইলনামা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি, কারণ তার মৃত্যুর পর নাৎসি পার্টি ও নাৎসি রাষ্ট্র উভয়ই বিলুপ্ত হয়ে যায়। মিত্রশক্তি জার্মানিকে দখল করার পর হিটলারের সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। তার মিউনিখের অ্যাপার্টমেন্ট এবং ব্যাভারিয়ান আল্পসের বাড়িটি রাজ্য সরকার দখল করে নেয়, যাতে সেগুলো কোনো পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে না পারে। এমনকি তার লেখা বই 'মাইন কাম্ফ'-এর কপিরাইটও ব্যাভারিয়া রাজ্য সরকারের অধীনে চলে যায়। ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল, হিটলারের মৃত্যুর ৭০ বছর পূর্তিতে বইটির কপিরাইট বাতিল করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন