অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একযোগে রাজপথে নেমেছে।
ভোটার তালিকা সংস্কার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অতিরিক্ত কেন্দ্রীয়করণের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। সময়ের সাথে সাথে তা বর্তমান সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নিচ্ছে।
আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাগরিকের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে। এই পদক্ষেপের কারণে সংখ্যালঘু ও বিরোধী মতাবলম্বীদের ভোটাধিকার হরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র থেকেও একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তির তথ্য সামনে এসেছে।
চিকিৎসা শিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে তরুণদের ক্ষোভ আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্মসংস্থানের সংকট। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদে যুক্ত হয়েছেন।
দিল্লির যন্তর মন্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বেশ কিছু মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশি ধরপাকড় সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ রাজপথে অবস্থান নিচ্ছেন।
কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বামপন্থী দলগুলোসহ ২৫টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত বিরোধী জোট এই আন্দোলনে সরাসরি সংহতি জানিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর নেতারা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতে যৌথ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি তারা রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক সম্মেলনে সরকারপ্রধান গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের কথা বললেও চলমান পরিস্থিতি তাকে নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলেছে। শাসনকালের এক দশকেরও বেশি সময় পার করার পর এমন চতুর্মুখী রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রশাসনকে পড়তে হয়নি।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন