নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৩:৩৯ পিএম
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছে, এই দুই আসামির নামে দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ে নিতে হবে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর এই নির্দেশ জারি করে।
এর আগে, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
গণহত্যার দায়ে সরকারের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি প্রথম বিচারের রায়। এই মামলার অপর আসামি এবং রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ বারবারই অভিযোগ করেছিল যে, শেখ হাসিনা ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী সব ধরনের অপরাধের মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী ও সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা।
এই রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনাল এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সম্পদ রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করল। এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ, রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা।
প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সময়কাল ছিল ২০০৯ সালের ছয়ই জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট পর্যন্ত। এই মামলায় মোট আট হাজার সাতশো সাতচল্লিশ পৃষ্ঠার অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালটি ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর পুনর্গঠন করা হয় এবং এটি পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন