নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ১১:৫৭ এএম
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর এখন তাদের আপিলের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন,
পলাতক থাকায় এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ তাদের নেই, যদি না তারা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করেন।সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরে বিচার প্রক্রিয়া মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তাদের (শেখ হাসিনা ও কামাল) যদি বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়া মোকাবিলা করার সাহস থাকে, আমরা বলবো তারা দেশে আসুক।
বাংলাদেশে এসে এই রায় অনুযায়ী তারা আত্মসমর্পণ করে রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন সুপ্রিম কোর্টে। তারা যদি যুক্তি দিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন আমাদের তো কোনো সমস্যা নেই। আইন আইনের গতিতেই চলবে।’আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী রায় ঘোষণার পর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল করতে পারবেন। অর্থাৎ, এই ৩০ দিনের মধ্যে যদি তারা দেশে ফিরে এসে আত্মসমর্পণ করেন, কেবল তখনই তারা সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ পাবেন। অন্যথায় তাদের এই ‘রাইট অব আপিল’ বা আপিলের অধিকার থাকবে না।
একই সুরে কথা বলেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর কোথাও পলাতক বা দণ্ডিত আসামি গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণ ছাড়া আপিলের সুযোগ নেই।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, পলাতক ব্যক্তির কোনো আইনগত অধিকার থাকে না। আপিল করতে হলে দণ্ডপ্রাপ্তকে অবশ্যই বাংলাদেশে এসে আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং জেলে যাওয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের কাছে তার সাজার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
এই মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী আমির হোসেনও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি রায়ের পর সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানান, ‘আমার পক্ষে এ মামলায় আপিল করার সুযোগ নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার ক্লায়েন্টরা সারেন্ডার করবেন অথবা অন্য কোনোভাবে গ্রেফতার হবেন, এর আগ পর্যন্ত আপিলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, যদি দণ্ডপ্রাপ্তরা আইন মেনে আত্মসমর্পণ করে আপিল দায়ের করেন, তবে আইন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যেই সেই আপিল নিষ্পত্তি করবেন।সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন