ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ১২:৪৮ এএম
জুলাই অভ্যুত্থানের সক্রিয় কর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সন্দিগ্ধ কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অন্যান্য আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর: এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) র্যাব ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া এবং শ্যালক শিপুকে আটক করে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাদের আদালতে তোলা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তার আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ ও অভিযোগ: হাদিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদরসহ (৩৭) অজ্ঞাতনামা আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তারা হত্যা, গুম ও খুনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল। জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় শরীফ ওসমান হাদি নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরোধিতার মুখে পড়েন এবং একাধিকবার হত্যার হুমকি পান।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণার সময় গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে তাকে বহনকারী অটোরিকশায় মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা গুলি করে পালিয়ে যায়।
হাদিকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর: এদিকে, গুলিবিদ্ধ শরীফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে তার ভাই ওমর বিন হাদি এবং বন্ধু আমিনুল হাসান ফয়সাল সিঙ্গাপুরে গেছেন।
গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে ঢামেক হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন