ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০২:৪৬ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতাকে হত্যার উসকানি ও কারফিউ জারির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে এই চাঞ্চল্যকর শুনানি হয়।
শুনানির এক পর্যায়ে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে দুই আসামির কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড বাজিয়ে শোনানো হয়। নিজেদের সেই কল রেকর্ড শুনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে হাসতে দেখা যায়।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আদালতে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে আন্দোলন দমনে কারফিউ জারি এবং নির্বিচারে গণহত্যার পেছনে এই দুই ব্যক্তির সরাসরি উসকানি ছিল। প্রসিকিউশন যখন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো পড়ে শোনাচ্ছিলেন তখন সালমান ও আনিসুলকে নিবিষ্ট মনে নিচের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসতে দেখা যায়। এরপরই আদালতে সেই অডিও রেকর্ডটি বাজানো হয় যেখানে আনিসুল হককে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। একই সাথে কথোপকথনে বার বার কারফিউ দেওয়ার অনুরোধের বিষয়টিও উঠে আসে।
নিজেদের ফোনের সেই রেকর্ড শুনে আসামিরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন এবং পুনরায় হাসতে থাকেন। তবে চিফ প্রসিকিউটর যখন এই অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন এবং আদালতের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয় তখন তাদের হাসিমুখ মলিন হয়ে যায়। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন এই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল যা আদালত আমলে নিয়েছেন। আজকের শুনানির মাধ্যমে জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। আদালত সকল তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করবেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন