জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
জনতা ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টার পাশাপাশি তার পরিবারের একাধিক সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন সালমানের ভাই এ এস এফ রহমান এবং তাদের দুই ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমান।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী এই জালিয়াতির সাথে বেক্সিমকো গ্রুপের বেশ কয়েকজন পরিচালক এবং জনতা ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি জড়িত ছিলেন।
অভিযুক্তদের তালিকায় জনতা ব্যাংকের সাবেক সিইও আব্দুছ ছালাম এবং সাবেক এমডি আব্দুল জব্বারের নামও রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের বেশ কয়েকজন সাবেক মহাব্যবস্থাপক ও উপ-ব্যবস্থাপককে এই জালিয়াতিতে সহযোগিতার দায়ে আসামি করা হয়েছে। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের ঋণ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন।তদন্তে উঠে এসেছে যে কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি নবসৃষ্টি প্রতিষ্ঠানকে অভিজ্ঞতাহীন হওয়া সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়।
আসামিরা ভুয়া এলসি এবং নিজেদের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে জাল বিল তৈরির মাধ্যমে ব্যাংকের এই বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এটি একটি পরিকল্পিত জালিয়াতি যেখানে সাধারণ মানুষের আমানতের অর্থ কৌশলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সরাসরি মদত না থাকলে এই ধরনের অর্থ লোপাট সম্ভব ছিল না বলে মনে করছে কমিশন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা সহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে সালমান এফ রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যরা বিদেশে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। দুদকের এই মামলার পর সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব এবং অন্যান্য সম্পদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে এই মামলার তদন্তে আরও নতুন কোনো তথ্য বা ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন