ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ১০:১৫ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী অবশেষে নির্বাচনী লড়াই থেকে ছিটকে গেলেন। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন খারিজ করে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন।
এই রায়ের ফলে আসন্ন নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আর কোনো আইনি সুযোগ থাকল না।ঘটনার শুরু হয় যখন ওই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেন।
তার অভিযোগ ছিল, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। হাসনাতের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মুন্সী হাইকোর্টে রিট করলেও গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা সরাসরি খারিজ করে দেন। এরপরই তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।গত ২৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয় এবং আদেশের জন্য আজ রোববার দিন ধার্য করা হয়েছিল। আজ সকালে আদালত ইসি ও হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর আবেদনটি খারিজ করে দেন। এর ফলে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষেই জয় নিশ্চিত হলো এবং মুন্সীর নির্বাচনী যাত্রার ইতি ঘটল।
এই রায়ের পর কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী এই প্রার্থী লড়াই থেকে বাদ পড়ায় আসনটি এখন বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর অবস্থান আরও সংহত হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আইনি লড়াই শেষে আদালতের এই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং ব্যালট পেপারে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম বা প্রতীক থাকার আর কোনো সম্ভাবনা রইল না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন