রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

এসপি আনিসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

এসপি আনিসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

যশোরের চৌগাছায় দুই ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তারের পর ‍‍`বন্দুকযুদ্ধের নাটক‍‍` সাজিয়ে গুলি করে পা কেটে ফেলার ঘটনায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। 

একইসঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত অপর তিন আসামিকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মামলার বিবরণ তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রশিবির নেতাকে আটক করে পুলিশ। 

তাদের আদালতে না তুলে টানা দুই রাত অমানবিক নির্যাতন করা হয়। তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানের নির্দেশে অধীনস্থ পুলিশ সদস্যরা ওই দুই ছাত্রনেতার পায়ে গুলি করেন। নিষ্ঠুরতার চরম পর্যায়ে, গুলির ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। 

পরবর্তীতে চিকিৎসার অভাবে পায়ে পচন ধরলে দুজনেরই একটি করে পা কেটে ফেলতে হয়।তাজুল ইসলাম আরও জানান, সে সময় পুলিশ একটি মিথ্যা অস্ত্র মামলা সাজিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এই নিষ্ঠুর ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল আজ অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আদেশ দিলেন। এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন— চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। তাদের সবার বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এই মামলায় তিনজন আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। তারা হলেন— চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। প্রসিকিউশনের দাবি, এই তিনজন সরাসরি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ভুক্তভোগীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই পৈশাচিক ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের মনে ন্যায়বিচারের আশা জেগেছে।