রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

আদালতে বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রীর জবানবন্দি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

আদালতে বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রীর জবানবন্দি

আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিথীকে

উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়েরকৃত ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার সাত দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। 

এরপর আদালতের বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে জবানবন্দি গ্রহণের সময় তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কী বলেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া আসামিকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিথীকে রিমান্ডে নিয়ে যথাযথ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

 জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার ঘটনার সাথে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং আদালতে জবানবন্দি দিতে ইচ্ছা পোষণ করেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটকে রাখার আবেদন জানানো হয় এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে বিমানের সাবেক এমডি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত শফিকুর রহমানের পাঁচ দিন এবং বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এর আগে গৃহকর্মী সুফিয়া খাতুনও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মামলার অন্যতম প্রধান আসামি শফিকুর রহমান জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত শুক্রবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের বিষয়েও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভিকটিম শিশুটির বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। গত বছরের জুন মাসে আসামিদের বাসায় শিশুটিকে গৃহকর্মীর কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের সময় আসামিরা শিশুটির ভরণপোষণ ও ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তাকে পরিবারের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী শিশুটির বাবাকে ফোন করে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। শিশুটির বাবা বাসায় গিয়ে দেখেন তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। পরে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি জানায় যে গত নভেম্বর মাস থেকে বিভিন্ন সময়ে সামান্য কারণে শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথী তাকে নির্মমভাবে মারধর করতেন। এমনকি খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার বিচার চেয়ে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।