রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুলাই সনদের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে রিটের শুনানি আজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

জুলাই সনদের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে রিটের শুনানি আজ

সুপ্রিম কোর্টে রিট শুনানি

‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনটির শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে হাইকোর্টের বিজয় ১৪ নম্বর কোর্টে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। 

এই শুনানিকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। 

আবেদনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং এর কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারী আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, এই সনদটি দেশের বিদ্যমান সংবিধানের বিভিন্ন ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রিটে একটি রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে, যাতে জানতে চাওয়া হয় কেন এই সনদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। 

রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সনদের অধীনে চলমান সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্র কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। 

এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। মূলত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একটি সাধারণ ঐকমত্যের দলিল হিসেবে এই সনদটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।আইনি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজকের এই শুনানি জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ এবং এর আইনি ভিত্তি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এর আগেও বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তবে জুলাই সনদের মতো একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিলকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুনানি শেষে উচ্চ আদালত এই বিষয়ে কী ধরনের নির্দেশনা বা পর্যবেক্ষণ দেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।