মার্চ ৩০, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ তিনজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভুঞা ওরফে জীবন এবং আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত তৌফিকা আফতাব ওরফে তৌফিকা করিম।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম এদিন আদালতে এই তিনজনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। তদন্ত সংস্থার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তৌফিকা করিম, আনিসুল হক ও রাশেদুল কাওসার ভুঞা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে প্রায় ২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেছেন।
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরবর্তীতে অপরাধলব্ধ উপায়ে লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অভিযোগে উঠে এসেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পাচার হওয়া অর্থের উৎস নিশ্চিত করার স্বার্থে অভিযুক্তদের বিদেশ যাত্রা ঠেকানো প্রয়োজন বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, আসামিরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে মামলার বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তাই তদন্তের চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত তাদের অবস্থান দেশে নিশ্চিত করা জরুরি। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।উল্লেখ্য যে, আনিসুল হক গত সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন এবং তার আমলে বিচার বিভাগে তৌফিকা করিমের ব্যাপক প্রভাব ছিল বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছিল।
বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে সিআইডি বর্তমানে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলা দায়ের হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন থেকে তারা যথাযথ আইনি অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন