এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার ১৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানীর বাসার কাছ থেকে ইলিয়াস আলী এবং তাঁর গাড়িচালক আনসার আলীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর হদিস না মেলায় নানা জল্পনা-কল্পনা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে সম্প্রতি ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই মামলার তদন্তে নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত শুরুর পর এই গুমের রহস্য উন্মোচনের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
গেল ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ইলিয়াস আলীর জন্য শোকপ্রস্তাব আনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তিনি আর বেঁচে নেই। এর আগে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন এবং গোয়েন্দা বাহিনীর এক সদস্যের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য মিলেছে। মামুন খালেদ দাবি করেছেন, তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল। তাঁর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনাল এখন আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে জেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার দিনে তাঁকে কারা অনুসরণ করেছিল, তাঁদের কল লিস্টের তথ্য ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান যে, ট্রাইব্যুনালে চলমান মেজর জিয়াউল আহসানের মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দিতেও ইলিয়াস আলীকে গুম করার কিছু যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে যারা সাক্ষ্য দিতে আসবেন, তাঁদের কাছ থেকে আরও নিখুঁত ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়ার আশা করছে প্রসিকিউশন। আমিনুল ইসলাম মনে করেন, একটি গঠনমূলক ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘ ১৪ বছরের এই ট্র্যাজেডি নিয়ে মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেছেন, সরকার যদি আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারে, তবে শুধু ইলিয়াস আলী নন, বরং বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া সব গুমের রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব। পরিবারের পক্ষ থেকেও দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার অবসান চেয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৩ এপ্রিল ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদকে এই গুমের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তারা সেই সময়ের নিখোঁজ ও গুমের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন